Sambad Samakal

Kunal Ghosh: প্রকাশ্যেই দলের বিরোধিতা! বিস্ফোরক কী দাবি কুণালের?

Nov 24, 2023 @ 8:45 pm
Kunal Ghosh: প্রকাশ্যেই দলের বিরোধিতা! বিস্ফোরক কী দাবি কুণালের?

নেতাজি ইনডোরের সভামঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি না থাকা নিয়ে প্রবীণ নেতাদের পদ আঁকড়ে থাকা, কিংবা আদালতে সরকারের বেইজ্জতি নিয়ে সরকারের “পরামর্শদাতা”দের তুলোধনা করা, প্রকাশ্যেই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, অভিষেকপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত কুণালের লাগাতার এই বিতর্কিত মন্তব্যে আদতে কি দলে আড়াআড়ি বিভাজনই স্পষ্ট হচ্ছে?

বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোরে তৃণমূলের সাংগঠনিক সভায় উপস্থিত ছিলেন না দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সে নিয়ে জল্পনা কম ছিল না। যদিও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের চোখের সমস্যার কথা সামনে এনেছেন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে কিছুক্ষণের জন্য অভিষেক মঞ্চে দেখাও দেন। তবে নেতাজি ইনডোরের ওই মঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবিও ছিল না। এমনকী, পুরো চৌহদ্দিতে তৃণমূলের কোনও পোস্টারে বা ব্যানারেও অভিষেকের কোনও ছবিই চোখে পড়েনি। যা নিয়ে শুক্রবর একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, “অভিষেকের ছবি ছাড়া তৃণমূলের মঞ্চ অসম্পূর্ণ। এটা হতে পারে না। এটা ঠিক হয়নি”।

কুণাল এদিন বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেত্রী। তিনিই দলের সম্পদ। তাঁর মুখ দেখেই মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেন। তা যেমন ঠিক তেমনই এও ঠিক যে অভিষেক অনেক পরিশ্রম করে, আত্মত্যাগ করে উঠে এসেছেন। ব্যাপারটা কখনওই মমতাদি বনাম অভিষেক নয়। ব্যাপারটা মমতাদি এবং অভিষেক। একজনকে ঘিরে আবেগ রয়েছে। আর একজন দলের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, যুবদের অনুপ্রাণিত করে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কাজ করছেন”।

ঠিক কাকে বিঁধে এই প্রতিবাদ কুণালের? স্পষ্ট করে কোনো নাম কিন্তু করলেন না তিনি। বললেন, “কারা অভিষেকের ছবি বাদ দিয়েছেন, বলতে পারব না। তবে যাঁরা এটা করেছেন ঠিক করেননি।” কিন্তু নেতাজি ইনডোরে দলের সাংগঠনিক সভা সভার আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। কুণাল ঘুরিয়ে তাঁর বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আবার অনেকের মতে, সুব্রত বক্সী যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে না জানিয়ে কোনো কাজই করেন না, তাই আদতে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও কার্যত তাঁর উদ্দেশেই প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল।

শুধু তাই নয়, দলে বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান বিতর্কও এদিন ফের উসকে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবারের সভায় দলের পুরনো নেতা তথা ‘অনেক লড়াইয়ের সঙ্গীদের’ কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোকে বলতে শোনা যায়, “সৌগতদা বলছেন, ওনার বয়স হয়েছে। কীসের বয়স? মানুষের মনের কোনও বয়স নেই। যতদিন বাঁচবেন সুস্থভাবে বাঁচবেন। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো বাঁচবেন। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করতে হবে।” কিন্তু শুক্রবার প্রকাশ্যে নেত্রীর সেই বার্তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। নেত্রীর প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা রেখেই তাঁর প্রশ্ন, “দেহত্যাগ না করলে পদত্যাগ নয়, এ কেমন কথা!” কুণালের ধারণা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল বুঝিয়ে পদে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেক প্রবীণ নেতা। কুণালের বার্তা, “দিদি সবাইকে নিয়ে চলতে চান। আর তরুণরা চান পুরনোরা থাকুন, কিন্তু পদ আগলে নয়। তাঁরা লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো মার্গদর্শক হয়ে যান।” কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যেও আদতে অভিষেকের “এক ব্যক্তি, এক পদ” নীতিরই সুর শোনা যায়। শোনা যায় নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বে নিয়ে আসার বার্তা।

আবার এদিনই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বিজেপির সভা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরোধিতারও কড়া সমালোচনা করেছেন কুণাল। তাঁর মতে, এতে অযথা জলঘোলা হয়েছে, হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের তুমুল বেইজ্জতি হয়েছে। যেটার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এর জন্য সরকারের পরামর্শদাতাদের দায়ী করে কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূল মুখপাত্র। সব মিলিয়ে শুক্রবার বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্ফোরক কুণালের বিতর্কিত মন্তব্য লোকসভা ভোটের আগে দলের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Related Articles