ভ্রমণের জমানো টাকা দিয়ে করোনা আক্রান্তদের সেবায় বারাসতের ব্যানার্জী পরিবার

ভ্রমণের জমানো টাকা দিয়ে করোনা আক্রান্তদের সেবায় বারাসতের ব্যানার্জী পরিবার

নৈসর্গিক সুখ খুঁজতে শৈল শিখরে ভ্রমণ নয়, করোনা আবহে আতঙ্কের উপত্যকা হয়ে ওঠা নিজের শহরের অসুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন বারাসতের ব্যানার্জী পরিবার।
করোনা আক্রান্ত অসুখে জেরবার পরিবারগুলিতে যখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে, রান্নার পাট শিকেয় উঠেছে, তখন সেই সমস্ত পরিবারের কাছে রান্না করা খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হচ্ছেন সৌগত ব্যানার্জী ও ঐন্দ্রিলা ব্যানার্জী। বলা যায়, করোনা আবহে মানবিক মুখ হয়ে উঠেছে বারাসত পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুর দাস সরণীর এই ব্যানার্জী পরিবারটি।
সৌগত ও ইন্দ্রিলা ব্যানার্জী ভ্রমণপিপাসু। গত বছরের লকডাউনের আগে থেকেই তাঁরা পরিকল্পনা করেছিলেন, ২০২১-এর গরমে স্বামী, স্ত্রী গরমে মোটরবাইকে লাদাখে ঘুরতে যাবেন। ওই ট্যুরের জন্য তাঁরা লাখ দুয়েক টাকাও বাজেট করেন। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয়। এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে স্যোশাল মিডিয়া ভরা আতঙ্ক,অসহয়তা, আর সাহায্যের আকুতি দেখতে পান সৌগত, ঐন্দ্রিলার। গত লকডাউনে দুই সন্তানের ইচ্ছায় নিজের সামান্য সাধ্য দিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। এবার তাঁরা লাদাখ ভ্রমণের বাজেট দিয়ে করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলিকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেন। ঐন্দ্রিলা ব্যনার্জী নিজে হোম-মেড কেকের ব্যবসা করেন। তিনিই স্বামীকে করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলিকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর স্বামীও আপত্তি করেননি। বরং স্ত্রীকে উত্সাহ দেন। এরপর তাঁরা স্যোশাল মিডিয়াতে তাঁদের কাজের কথা জানিয়ে নিজেদের ফোন নম্বর দেন।
স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরদিনই বেলা ১১ টায় চার জন করোনা রোগীর থেকে খাবারের বরাত আসে। তারপর গত ১০ দিনে সেই বরাত ৪০-এ পৌঁছেছে।
প্রতিদিন সকালে সৌগত বাজার করছেন। আর তাঁর স্ত্রী ঐন্দ্রিলা দুপুরের মধ্যে রান্না করে খাবার প্যাকেট বন্দি করেছেন আত্মীয়-প্রতিবেশীদের নিয়ে। তারপর বাইক নিয়ে লে-লাদাখ নয়, বারাসত শহরের অলিগলি পেরিয়ে আর্তের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মিশন দম্পতির। সব শেষে আবার রাতের খাবার তৈরি ও পৌঁছে দেওয়া। ঐন্দ্রিলা জানান, তাঁদের খাবারের চাহিদা বেড়ে যাওয়া সহযোগী একজনকে নিয়েছেন। বারাসত শহরের পাঁচ-দশ কিলোমিটার এলাকার মধ্যেই শুধু তাঁরা এই একান্ত পারিবারিক উদ্যোগকে নিয়ন্ত্রিত রেখেছেন। সৌগত ব্যানার্জীর কথায়, তাঁদের দুই সন্তানের আগ্রহের জন্যই তাঁরা এই কাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন। ব্যানার্জী দম্পতির দাবি, প্যাংগং লেকের সৌন্দর্যের থেকেও বেশী তৃপ্ত তাঁরা এই কাজ করতে পেরে। তাঁদের মানবিক দৃষ্টান্ত প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে করোনা পীড়িত মানব সমাজের কাছে….

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.