রাঙাবেলিয়ায় যশ বিধস্ত দুর্গতদের পাশে সাতদিনের খাবার নিয়ে বেলঘরিয়া টাচ

রাঙাবেলিয়ায় যশ বিধস্ত দুর্গতদের পাশে সাতদিনের খাবার নিয়ে বেলঘরিয়া টাচ

সুন্দরবনের নানা দ্বীপে যশ ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব চালানোর পর প্রায় একমাস হতে চলল। কিন্তু এখনও নদীর পাড় ধরে দুর্গত মানুষের হাহাকার ভেসে আসছে প্রতিনিয়ত। একটি ভুটভুটি বা লঞ্চ দেখলেই ‘মা, খাবার দিয়ে যাও’ ‘বাবুরা আটা দিয়ে যাও’ এমন অসহায় আর্তনাদ ভেসে আসছে। যঁারা এমন সময়ে সুন্দরবনের গভীর গিয়েছেন তাঁরাই এই হৃদয় বিদারক ছবির সঙ্গে পরিচিত। কারণ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছেড়া কাপড়ের ছাউনি টাঙিয়ে নদীর পাড়ে অসহায় মানুষ সারদিয়ে বসে আছে খাবার পাবার আশায়। নদীর পাড়ের রাঙাবেলিয়ার সোনাগাঁয় এমনই এক যশ বিধস্ত দুর্গত গ্রামে ত্রাণ ও খাবার নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল উত্তর শহরতলির মানবিক স্বেচ্ছ্বাসেবী সংস্থা ‘বেলঘরিয়া টাচ’।
অনেকেই কলকাতা থেকে সুন্দরবনের তটভাগে এসে গোসাবা বা গদখালির কাছাকাছি গ্রামে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে কিছু খাবার বা জামাকাপড় বিলিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু গত নয় বছর ধরে প্রতিমাসে নিয়ম করে সুন্দরবনের মানুষের পাশে নানা সাহায্য পৌঁছে দেওয়া ‘বেলঘরিয়া টাচ’ এবার যশের পর রাঙাবেলিয়ার গ্রামে পৌঁছাল। স্বেচ্ছ্বাসেবী এই সংস্থা একসঙ্গে সাতশো দুর্গত মানুষের হাতে এক সপ্তাহের খাবার দিয়ে অঙ্গীকার করেছে, ফের আসবে আরও অনেক ত্রাণ নিয়ে। এলাকায় বহু মানুষের বাড়ী ঘর ভেসে গিয়েছে বিদ্যাধরী নদীর জলে। সামুদ্রিক জল ক্ষেতে ঢোকায় আগামী ২ বছর কোন চাষ সেখানে হবে না। যশ ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত গোসাবা ব্লকের রাঙ্গাবেলিয়া গ্রামের দুর্গতদের চাল, চিড়া, ডাল, সয়াবিন, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, সাবান, বিস্কিট, খাবার জল, শিশুদের দুধ , ম্যাগি, হরলিক্স দিয়েছেন টাচের সদস্যরা। সংস্থার সম্পাদিকা সন্দীপা নন্দী জানিয়েছেন, “ সুন্দরবনের ঝড়খালিতে গত ৯ বছর ধরে আমরা নানা সাহায্য নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু এবারের দুর্যোগ গোটা সুন্দরবনের মানুষের চরম সর্বনাশ করে দিয়েছে। আমরা রাঙাবেলিয়ার গ্রামের অসহা য় মানুষের পাশা সাধ্যমতো দঁাড়ানোর চেষ্টা করছি।” টাচের এই ত্রান দিতে যাওয়া টিমে ছিলেন বিবেক আশীষ মিশ্র, অনুপা নন্দী, সোমা দাস, তড়িৎ সরকার, বিথী কর, রইসা বড়ুয়া প্রমুখ।

Related Articles

2 Comments

Avarage Rating:
  • 0 / 10

Comments are closed.