নিজের মূর্তি বানিয়েও বসিয়ে যেতে পারলেন না বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর

নিজের মূর্তি বানিয়েও বসিয়ে যেতে পারলেন না বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর

নিজেই নিজের চার-পাঁচটি মূর্তি বানিয়েছিলেন তিনি। ইচ্ছে ছিল, ভোটের ফল প্রকাশের পর সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তিনি নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে এলাকায় মূর্তিগুলি স্থাপন করবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছে আর পূরণ হল না। করোনা পরবর্তী ফুসফুসের সংক্রমণে মৃত্যু হল গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের। শনিবার রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দলীয় বিধায়কের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে ফোন করেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, রবিবার প্রয়াত বিধায়কের মরদেহ কলকাতা থেকে গোসাবার চুনাখালি গ্রামে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই পারিবারিক নিয়ম মেনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
মে মাসের গোড়ায় করোনায় আক্রান্ত হন তিনবারের বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর। কো-মর্বিডিটিও ছিল তাঁর। সেই সময় প্রথমে ১১দিন তিনি বাঙ্গুর হাসপাতালে ছিলেন। পরে দলীয় নেতৃত্বের উদ্যোগে তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই টানা ২৩ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুক্রবারই তাঁর কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু ততদিনে ফুসফুসের জটিল অসুখ নিমোথোরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানান, কোভিডের জেরেই ফুসফুস ফুটো হয়ে গিয়েছিল জয়ন্ত বাবুর। শনিবার সকাল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ভেন্টিলেশনে দিয়েও শেষ রক্ষা হল না। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি। দলীয় বিধায়কের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক সওকত মোল্লা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী প্রমুখ।

Newsletter