নিয়োগে দুর্নীতি ঠেকাতে মেডেল, ঘটি-বাটি বিক্রি করে অভিনব প্রতিবাদ হবু অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের

নিয়োগে দুর্নীতি ঠেকাতে মেডেল, ঘটি-বাটি বিক্রি করে অভিনব প্রতিবাদ হবু অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের

স্কুল সার্ভিস কমিশনের পর এবার কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগেও দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগে পথে নামল কলেজ সার্ভিস কমিশনের কয়েকশো মেধা তালিকাভুক্ত চাকরিপ্রার্থীরা। শুক্রবার কলকাতায় ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে অভিনব প্রতিবাদ দেখালেন তাঁরা। মেধা তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়ায় প্রার্থীরা পদক ও ঘটি-বাটি বিক্রি করে অভিনব প্রতিবাদ দেখালেন ২০১৮ সালের কলেজ সার্ভিসের মেধা তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা।

২০১৮ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলেজগুলিতে ইউজিসি-র নিয়ম মেনে সিবিএসসি পদ্ধতিতে পড়াশোনা শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে কলেজগুলিতে প্রতিটি বিভাগে চার থেকে ছয় জন অধ্যাপক প্রয়োজন ছিল উপযুক্ত শিক্ষা প্রদানের জন্য। অথচ পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ কলেজে এমন বহু বিভাগ রয়েছে যেখানে একজন স্থায়ী অধ্যাপকও নেই।  এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের ৪৫২টি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কলেজে পূর্ণ সময়ের স্থায়ী অধ্যাপকের শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৩০,০০০ বা ৬৫ শতাংশ। অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইউজিসি নিয়ম না মেনেই কলেজগুলিতে বিপুল সংখ্যক স্যক্ট শিক্ষক নিয়োগ করেছে। অথচ যাবতীয় যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া কয়েকশো উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থীদের নিয়োগ না হবার সদুত্তর সরকার দিতে ব্যর্থ বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে প্রেসিডেন্সি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরপর্যায়ে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রার্থী ড. প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু বললেন, ‘ আজ আমরা অনেকেই আমাদের প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে যেসমস্ত মেডেল পেয়েছিলাম এবং আমাদের বাড়ির ঘটি-বাটি বিক্রির প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়ে সরকার তথা সমাজকে আমাদের অসহায়তার চিত্রকে বোঝাতে চেয়েছি। পাশাপাশি যোগ্যতার  যাবতীয় পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকাভুক্ত হয়েও নিয়োগ না পাওয়ার ফলে শেষ সম্বল বিক্রি করে আমরা আমাদের পরিবারের সকলের মুখে অন্ন তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছি, এই বার্তাও দিতে চেয়েছি।’ মমতার সরকারের বিরুদ্ধে স্বজন পোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

অথচ, ২০১৮-র মেধা তালিকাভুক্তদের নিয়োগ না করেই, তাদের মেধা তালিকার বৈধতা শেষের আগেই ২৪শে ডিসেম্বর ২০২০, কলেজ সার্ভিস কমিশন নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মেধাতালিকায় প্রার্থীদের অভিযোগ, যদি শূন্যপদ না থাকে তাহলে নতুন বিজ্ঞপ্তি আসে কা ভাবে? আর শূন্যপদ থাকলে মেধাতালিকায় প্রার্থীদের নিয়োগ হচ্ছে না কেন? তাহলে সরকার কি ভোটের স্বার্থেই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে? মেধাতালিকাভুক্ত সমস্ত প্রার্থীর দ্রুত নিয়োগের দাবি জানানোর পাশাপাশি কলেজ সার্ভিসের দুর্নীতির বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

Newsletter