করোনা থেকে বাঁচতে কী খেতে বলছেন হু বিশেষজ্ঞরা?

করোনা থেকে বাঁচতে কী খেতে বলছেন হু বিশেষজ্ঞরা?

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে জেরবার গোটা দেশ। সংক্রমণ রুখতে ফের জিম, সুইমিং পুল বন্ধের নির্দেশিকা জারি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাতাসেও ভাসছে করোনা ভাইরাস। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ রাখতে কেবল করোনাবিধি মানলেই চলবে না, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং মেদবৃদ্ধি সহ অন্যান্য রোগের হাত থেকে বাঁচতে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধ সহ শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ডায়েটে কী কী খাবার বাঞ্ছনীয়, তার একটি তালিকা দিয়েছেন হু-র বিশেষজ্ঞরা। দেখে নিন কী আছে সেই ডায়েট চার্টে…

১) প্রোটিন জাতীয় খাবার- শরীরকে চাঙ্গা ও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে প্রোটিন। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন-জাতীয় খাবার রাখা জরুরি। যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ বা বিশেষ শারীরিক সমস্যা না থাকলে সপ্তাহে অন্তত একবার রেড মিট খাওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

২) বাদাম ও শস্যদানা – মারণ কোভিড ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে ক্যালোরির দিকে নজর রাখা জরুরি। তাই ডায়েটে ভুট্টা, গম, ওটস, বাজরার মত শস্যদানা এবং পেস্তা, বাদাম জাতীয় খাবার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে করোনা ভাইরাসের জেরে যেহেতু জিম, সুইমিং পুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শরীরচর্চা এমনকি প্রাতর্ভ্রমণের অভ্যাস কমে গিয়েছে কমে গিয়েছে, তাই চকোলেট, আইসক্রিম, চিপস এমনকি অতিরিক্ত চিনি থেকে দূরে থাকাই ভালো বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩) ফল ও শাকসবজি- ফল ও শাকসবজি শরীরে পুষ্টিগুণ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত উপযোগী ভূমিকা নেয়। আবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম সহায়ক। তাই করোনা ঠেকাতে হু-র তরফেও পেয়ারা, আঙুর, আনারস, লেবু জাতীয় ফল এবং সবুজ শাক-সবজি, কাঁচা লঙ্কা, ব্রকোলি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৪) প্রচুর জল- স্বাস্থ্য ধরে রাখতে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যে কোনো রোগ প্রতিরোধে শরীরে জলের ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত জরুরি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সকালে উঠে খালি পেটে অন্তত দু’ গ্লাস জল খাওয়া জরুরি বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ওজনহ্রাসের সময়েও শরীরে সক্ষমতা বজায় রাখতে জলের প্রয়োজন একান্তই গুরুত্বপূর্ণ। তাই জলের ভারসাম্য রাখতে দিনে অন্তত ৪-৫ লিটার জল খাওয়া দরকার বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৫) পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মানুবর্তিতা- নিয়ম মেনে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মানুবর্তিতাও বিশেষ জরুরি। খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম শরীরে গভীর সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজ দরকার। পাশাপাশি শরীর চনমনে রাখতে নিয়মিত ধ্যান, যোগাভ্যাস এবং সর্বোপরি পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

Newsletter