অলিম্পিকে পদক জয়ী লভলিনা কি চেতলা অগ্রণীতে আসছেনই?

অলিম্পিকে পদক জয়ী লভলিনা কি চেতলা অগ্রণীতে আসছেনই?

শুক্রবারই অলিম্পিকে পদক জয় নিশ্চিত করেছেন লভলিনা। আর এই খবর জানতে পেরেই আবেগে ভাসলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আজ থেকে ৯ বছর আগে তাঁর ক্লাব কলকাতার চেতলা অগ্রণীতে বক্সার রিংয়ে যে দাপট দেখিয়েছিলেন অসমের কিশোরী, মাথায় বিদ্যুতের মতো খেলে গেল সেই স্মৃতির ঝলক। মুহূর্তে মনোস্থির করলেন, পদক জিতে দেশে ফিরলেই লভলিনাকে সংবর্ধা দেবে চেতলা অগ্রণী।

খবরটা শোনার পর থেকেই নস্টালজিয়া যেন কাটছেই না ফিরহাদের। স্মৃতির তরণী বেয়ে পৌঁছে গেলেন সেই ২০১২ সালে। ফিরহাদ হাকিমের বাবা আবদুল হাকিম পেশায় পোর্টের ল অফিসার হলেও বক্সার হিসাবে তাঁর স্বতন্ত্র পরিচিত ছিল। ১৯৪২ সালে বক্সিংয়ে বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। বাবার স্মৃতিতেই চেতলা অগ্রণীতে বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করেন ফিরহাদ। ২০১২ সালে সেই চ্যাম্পিয়নশিপেই ট্রফি জিতে নিয়েছিলেন অসমের ক্রিড়াবিদ লভলিনা। তিলোত্তমার বুকে চেতলা অগ্রণীর বক্সার রিংয়ে ঝড় তোলা সেদিনের সেই কিশোরীই আজ পদক এনে দিতে চলেছে দেশকে। লভলিনাকে সংবর্ধিত করে তাই আপামর কলকাতাবাসীর সঙ্গে এই গর্ব ভাগ করে নিতে চান কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।

এদিন টোকিও অলিম্পিকের সেমিফাইনালে পৌঁছেই পদক নিশ্চিত করেন লভলিনা। তবে ফিরহাদ হাকিম কিন্তু ফিরে গিয়েছেন ৯ বছর আগের মুগ্ধতায়। বললেন, ‘দারুণ পারফর্ম করেছিল। সেই মেয়েটাই যে অলিম্পিকে পদক জিততে চলেছে, ভেবেই ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ৯ বছর আগে চেতলায় আয়োজিত সেই চ্যাম্পিয়নশিপে ক্ষুদে লভলিনার দাপট। পদক নিয়ে দেশে ফিরলেই ওর সঙ্গে যোগাযোগ করব। আবার ওকে কলকাতায় আসার আমন্ত্রণ জানাব। আর যে ক্লাবে ৯ বছর আগে সেরা হয়েছিল, সেই চেতলা অগ্রণী সংবর্ধনা দেবে লভলিনাকে।’ সেমিফাইনালে পৌঁছে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেই ফেলেছেন লভলিনা। তবে ফিরহাদ চান, শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখুন এই কৃতী। সেই আশায় একরাশ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লভলিনাকে।

কিন্তু দেশের মুকুটে পদকের পালক গুঁজে দেওয়া লভলিনা আবার সাড়া দেবেন তো কলকাতার ডাকে? দেশজুড়ে সংবর্ধনার বন্যায় ভাসতে ভাসতে তাঁর কি মনে পড়বে ৯ বছর আগে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জিতে নেওয়ার স্মৃতি? একইরকম নস্টালিজয়ায় ভেসে চেতলা অগ্রনীর সংবর্ধনা গ্রহণ করতে আকুল হবেন কি চব্বিশের তরুণী? উত্তর দেবে সময়ই।

Related Articles