ফ্যাশন ডিজাইনেও পা দুই বাংলার মেলোডি কুইন আঁখি আলমগীরের

ফ্যাশন ডিজাইনেও পা দুই বাংলার মেলোডি কুইন আঁখি আলমগীরের


জীবনে প্রথম ছবি ‘ভাত দে’-তে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। পরে আরও কিছু ছবিতে অভিনয় করলেও গানকেই ভালবেসে আকড়ে ধরেছিলেন। তাই নায়িকা হওয়ার সমস্ত গুন ও অপরিসীম সৌন্দর্য থাকলেও গায়িকা হিসাবে খ্যাতি পেলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তী অভিনেতা আলমগীরের মেয়ে আঁখি। শুধু দুই বাংলা নয়, বিদেশের মাটিতেও তঁার সুরেলা কণ্ঠ মাতিয়ে দিল আপামর বাঙালিকে। দু’বছর আগে বাবা আলমগীরের পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবিতে অসাধারণ প্লে-ব্যাক করার স্বীকৃতি হিসাবে পেলেন চলচিত্রে বাংলাদেশের সেরা জাতীয় শিল্পীর সম্মান। স্বভাবতই অভিনেত্রীর পাশাপাশি সেরা কণ্ঠশিল্পী, দুই জাতীয় পুরস্কার একমাত্র আঁখি আলমগীরের ঝুলিতেই। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অতিমারীর মধ্যে করোনাকালে ঘরে বসে তঁার সৃষ্টিশীল মন এবার ডানা মেলে দিল আরেক সৃজনশীল জগতে। তিনি এবার নীরবে পা রাখলেন ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে। খুলে ফেললেন একটি ফ্যাশন হাউজ, নাম দিয়েছেন ‘মখমল’।
আঁখির নতুন জগতে পা রাখার মধ্য দিয়ে বাংলার সংস্কৃতি জগত নতুনভাবে খুঁজে পেয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের এক শিল্পীকেও। তিনি আঁখির বড় মেয়ে স্নেহা। তঁার ফ্যাশন ডিজাইন করা দৃষ্টিনন্দন, মনকাড়া শাড়িগুলির মডেল হয়েছেন স্নেহাই। সঙ্গে অবশ্য নিজেও মডেল হয়েছেন দুই বাংলায় মেলোডি কুইন নিজেও। ফেসবুকে আঁখির নানা রঙের চোখজুড়ানো বর্ণময় ও কল্পনামুগ্ধ সৃষ্টি দেখে অভিভূত শাড়িপ্রেমীরা। প্রতিটি শাড়ি ইউনিক এবং অপ্রতিদ্বন্দী বলে ফেসবুকেই কমেন্টস করেছে অজস্র নারী-পুরুষ। কলকাতায় আঁখির যঁারা ফ্যান-ফলোয়ার্স রয়েছে তঁারা সকলেই বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পীর ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ায় আবেগাপ্লুত। কারণ, শুধু কণ্ঠ নয়, তঁার মোলায়েম মখমলের মতো ব্যবহারই তঁাকে জনপ্রিয় করেছেন সংস্কৃতির রাজধানী কলকাতাতেও। বস্তুত এই কারণে তঁাকে খুবই পছন্দ করেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মাঙ্গেশকর থেকে আশা ভোসলেও। একই মঞ্চে কুমার শানুর সঙ্গে অনুষ্ঠানও করেন তিনি।
আপাতত করোনার জেরে লকডাউন থাকায় ‘মখমল’ অনলাইনেই অর্ডার নেওয়া এবং কু্যরিয়রে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পী। ফেসবুক পেজে ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে আঁখির ডিজাইন করা শাড়ি নিতে এতটাই চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে যে এখন রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থা শিল্পীর। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিদেশ থেকেও বহু নারী তঁাদের পছন্দের শাড়ি চেয়ে পাঠিয়ে আঁখিকে অজস্র মেসেজ করছেন। আর স্বয়ং আঁখি বলছেন,“ছেলেবেলা থেকে নিজের পছন্দের শাড়ি পড়া এবং সৃষ্টিশীল কাজের মধ্যে ডুবে থাকা আমার নেশা। গত কয়েক বছর ধরে আমার অনেক শাড়ি ও পোশাক আমি নিজেই ডিজাইন করি। অনেকেই সেগুলি পরতে চান, কিনতে চান। তাই এবার নিজেই একটা ফ্যাশন হাউজ করে ফেললাম।” আপাতত অনলাইনে ‘মখমল’ চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ঢাকায় আঁখির শাড়ি পাওয়া যাবে আউটলেটে।

Related Articles